মিস্টিকঃ দূর নিয়ন্ত্রিত বহুমুখী রোবট

মার্ভেল কমিক্স এর যেকোনো ফ্যানই মিস্টিক এর নাম শুনে থাকবেন। মিস্টিক ছিল একজন মিউট্যান্ট যে তার চেহারা পরিবর্তন করতে পারত। এই প্রোজেক্ট এর উদ্দেশ্য ছিল সেই মিস্টিক এর মতই একটা রোবট বানানো যেটা প্রদত্ত কাজের উপর ভিত্তি করে তার আকার পরিবর্তন করতে পারবে।

এই রোবট এর মূল অংশ হচ্ছে বেশ কিছু পরিবর্তনযোগ্য টারেট ( সামরিক যানের উপরের যে অংশের সাথে মেশিন গান যুক্ত থাকে ) । এই টারেটগুলোই রোবটকে মিস্টিকের মত করে তুলেছে। টারেটগুলোর সাথ বিভিন্ন ফিচার, যেমন: সাধারণ ক্যামেরা, ইনফ্রা-রেড ক্যামেরা, থার্মাল ইমেজার, ভূমি-ভেদন-যোগ্য রাডার অথবা মেশিন গান যুক্ত করা যাবে।

উদ্ধারকাজ অথবা সামরিক নজরদারির জন্যও মিস্টিককে ব্যাবহার করা যাবে।

ডিজাইন

মিস্টিক এর কাজের ধরন অনুযায়ী একে হালকা, পরিবহনযোগ্য, আকারে ছোট কিন্তু একই সাথে শক্তিশালী এবং টারেটগুলোও দ্রুত কোন ঝামেলা ছাড়া যাতে পরিবর্তন করা যায় সেদিকে লক্ষ রাখা হয়েছে। মিস্টিককে অনেকটা ট্যাঙ্ক এর মত করা হয়েছে। চেসিস এর জন্য হালকা কাঠ ব্যাবহার করা হয়েছে। প্রোটোটাইপ চেসিসটি ছিল ২.৫×১.৫ ফিট আকারের এবং ওজন ছিল ১৫ কেজি।

পরিবর্তনযোগ্য টারেটই রোবটটিকে বাস্তব ক্ষেত্রে বিভিন্ন জটিল কাজের জন্য উপযুক্ত করে তুলেছে। রোবটের অপারেটর তার নিজের প্রয়োজন অনুসারে যেকোনো একটি টারেট ব্যাবহার করতে পারে। শুধুমাত্র কয়েকটি নাট-বোল্ট এর সাহায্যেই টারেটগুলো মূল রোবট এর সাথে জোড়া লাগিয়ে রোবটকে বিভিন্ন কাজের উপযোগী করে তোলা করা সম্ভব।

কাঁচামাল ও বাজেট

রোবট এর জন্য প্রাথমিক বাজেট ছিল ১০,০০০ টাকা। আর্থিক সীমাবদ্ধতার জন্য কাঁচামাল হিসেবে স্থানীয় বাজারে প্রাপ্ত দ্রব্য ব্যাবহার করা হয়েছে মিস্টিকে।

রোবটের চেসিস এর জন্য স্টেইনলেস ষ্টীল চ্যানেল ব্যাবহার করা হয়েছে। রোবটের বডি তৈরি করা হয়েছিল কাঠ দিয়ে। রোবট চালানো হয়েছিল বাই-সাইকেল এর চেইন ও স্প্রোকেট ব্যাবহার করে। মিস্টিকের অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছিল বুয়েট মেশিন শপ , বুয়েট ওয়েল্ডিং শপ এবং বুয়েট কারপেন্ট্রি শপে।

রোবট এর শক্তির উৎস হিসেবে ১২ ভোল্টের ডিসি ব্যাটারি ব্যাবহার করা হয়েছিল মিস্টিকে, এটি সহজেই পরিবর্তনযোগ্য।

রোবটের জন্য কমান্ড ও কন্ট্রোল সফটওয়্যার দলের সদস্যরাই তৈরি করেছিলেন। কন্ট্রোলিং ইউনিট হিসেবে Arduino ব্যাবহার করা হয়েছে। এটা অপারেটরকে রোবটের উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে এবং একই সাথে টারেট এর সাথে সংযুক্ত সেন্সর ও ক্যামেরার মাধ্যমে সরাসরি ভিডিও ও অন্যান্য সিগনাল প্রেরণে সরাসরি ভূমিকা রাখে।  মিস্টিকে Ex-Bee মডিউল এর সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে ডাটা প্রেরণের সিস্টেমটি যেটি সম্পূর্ণ তারহীন এবং যেকোনো সমসাময়িক যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণযোগ্য।

ব্যাবহারিক প্রয়োগ

মিস্টিককে সামরিক নজরদারি, পরিদর্শনের কাজে ব্যাবহার করা যেতে পারে। সম্প্রতি সাভারে ঘটে যাওয়া রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় বেশ কিছু উদ্ধারকর্মী আহত ও মৃত্যু বরণ করায় এই দলের সদস্যগণ মিস্টিকের প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে চিন্তা করছেন। উদ্ধার কর্মকাণ্ডে মিস্টিকের ব্যাবহার অনেক উদ্ধার-কর্মীর জীবনের ঝুঁকি হ্রাস করতে পারে। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য-

  •  ইনফ্রা-রেড/থার্মাল ইমেজার টারেট দুর্ঘটনায় আহত/বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিকে অন্ধকারে সনাক্ত করতে পারবে।
  •  আহত ব্যক্তিকে খাবার/পানি পৌছাতে মিস্টিককে ব্যাবহার করা যেতে পারে।
  •  মিস্টিকের ওয়েবক্যাম এর সাহায্যে কোন উদ্ধারকর্মী তার সামনে যেকোনো বাঁধা আগে থেকেই দেখতে পাবেন।

এক কথায়, মানুষের জন্য দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ সকল স্থানেই মিস্টিককে ব্যাবহার করা যেতে পারে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

ট্যাঙ্ক ট্রেড নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি মিস্টিকের সাথে সংশ্লিষ্ট সদস্যগণ চেসিসটাকে আরো হালকা ও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছেন। এছাড়া মিস্টিককে উভচর যান হিসেবে তৈরি করার পরিকল্পনাও তাদের আছে।

যোগাযোগ

১. হাসানুর রশিদ
২. তন্ময় বাড়ই
৩. পার্থ কুমার দাস
৪. মোঃ ফেরদৌস আলম

Share Button

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*