বুয়েট ‘স্টারলেটস’ এর ‘আগামীর শহর’!

বর্তমানে দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে জ্বালানি দ্রুত নিঃশেষ হচ্ছে। এই জ্বালানি খরচ কমানোর জন্য প্রয়োজন এমন একটা নগরায়ন পরিকল্পনার যার মাধ্যমে যেকোনো শহরকে ভবিষ্যতে আরো পরিবেশ-বান্ধব ও জ্বালানি সাশ্রয়ী করা যায়। এই লক্ষ্য নিয়েই একটি ফ্রেঞ্চ সংস্থা “Studyka” , “City of Tomorrow: 2nd Edition” নামে প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। আর এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে বুয়েট এর “স্টারলেটস” দলটি বুয়েটকে এমনভাবে সাজানোর পরিকল্পনা উপস্থাপন করে জিতে এনেছে মর্যাদাপূর্ণ ২য় পুরস্কার। গত ১৭ নভেম্বর ফ্রান্সের মেরিনা লা ভ্যালিতে “City Of Tomorrow” প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

প্রোজেক্ট প্রস্তাবনা

বুয়েটকে পরিবেশ-বান্ধব ও জ্বালানি সাশ্রয়ী করার জন্য দলের সদস্যরা কিছু প্রস্তাব দেন:
•বুয়েট ক্যাম্পাসের লাইব্রেরির সামনে ফাঁকা জায়গাটিতে পুকুর খনন করা। আর্কিটেকচার ও ইউআরপি ভবনের পেছনের খালি জায়গাটির জন্য প্রস্তাবে রয়েছে একটি সবজির বাগান করার, যে বাগানে কাজ করবে শিক্ষার্থীরাই।
•ক্যাম্পাসের সিভিল ভবন, ইএমই ভবন, আর্কিটেকচার ভবনের ছাদগুলোতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থার প্রস্তাবনাও ছিল এই প্রকল্পে, যেখানে পাইপ দিয়ে বৃষ্টির সঞ্চিত পানি ভূগর্ভে প্রবেশ করিয়ে ভূ-গর্ভস্থ পানির উচ্চতা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।
•সাইকেল চালানোর জন্য একটি রাস্তা তৈরি করা যাতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত গাড়ি চলাচল বন্ধ করা যায়। কারণ গাড়ির ধোঁয়াই অধিকাংশ পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ী।
•জ্বালানি সাশ্রয়ী করে ক্যাম্পাসকে গড়ে তোলার জন্য ক্যাফেটেরিয়ার সামনের রাস্তায় একটি “এনার্জি কনভার্টার স্লাইড” বসানোর প্রস্তাব, যা হাঁটার শক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করবে।

নির্বাচন প্রক্রিয়া

শুরুতে স্টারলেটসের সদস্যরা ৩ স্লাইডের একটি প্রস্তাবনা তৈরি করে পাঠান। তারপর ১৭০টি দলের মধ্যে মাত্র ৩০টি দলের একটি হিসেবে তাঁদের যখন পুরো প্রস্তাবনা জমা দেওয়ার সুযোগ পায় স্টারলেটস, তখন থেকেই শুরু হয়ে যায় ব্যাপক পরিকল্পনা। বিস্তারিত বর্ণনা সহকারে প্রকল্পটি “স্টাডিকা” এর কাছে পাঠানোর পর নির্বাচিত ২১টি দলের প্রকল্প প্রকাশ করা হয়।এরপর অনলাইন ভোটিং ও বিচারকদের যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হয় ছয়টি দলকে তাদের প্রোজেক্ট উপস্থাপনের জন্য। শুধু বাংলাদেশেরই নয়, পুরো এশিয়ার একমাত্র দল হিসেবে স্টারলেটস এই প্রতিযোগিতার ফাইনালে অংশগ্রহণ করে।

উৎসাহ এবং সাধুবাদ

প্রতিযোগিতার ফাইনাল রাউন্ডে জাজ প্যানেলে Saint-Gobain, Eiffage Constructions, Descartes Development, RATP এবং Advancityএর মত বিখ্যাত নাম ছিল। ফ্রান্সে দলের প্রতিনিধিত্ব করেন কাশফিয়া নেহরীন। তৃতীয় বিশ্বের কোনো দেশের কাছ থেকে এত সুন্দর প্রস্তাবনা আশা করেনি প্রতিযোগিতা আয়োজক ‘স্টাডিকা’ কর্তৃপক্ষ। তাই কাশফিয়ার উপস্থাপনা শেষ হলে বিচারকেরা পর্যন্ত হাততালি দিয়ে দাঁড়িয়ে যায়। এছাড়া ফ্রান্স এর কিছু প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ এর বিভিন্ন কোম্পানির সাথে অংশীদারি ভিত্তিতে কাজ করার এবং বুয়েট থেকে স্নাতক নিয়োগ দেয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন। কাশফিয়াকে Saint-Gobain এর কর্মকর্তারা তাদের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করতে বলেন।

সদস্য

•তাসনিম ফিরোজ অনন্যা
•কাশফিয়া নেহরীন
•তাসফিয়া তাসনিম বাঁধন

Share Button

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*