কম খরচে সৌর শক্তি: কল্পনা-বাস্তব

সম্প্রতি বিকল্প জ্বালানী নিয়ে আলোচিত অনেক গুলা বিষয়ের মধ্যে সৌর শক্তি অন্যতম। বিশেষ করে মধ্য আয়ের দেশগুলোতে ইলেক্ট্রিসিটি বা তড়িৎ শক্তির অভাব উন্নয়নমূলক কাজে বাধার সম্মুখীন হয়ে দাঁড়িয়েছে । স্বল্প খরচে শক্তির বিকল্প এবং কার্যকর উৎস সন্ধান করতে বুয়েটের উদ্যমী পাঁচ জনের একটি দল এর একটি সমাধান বের করে IEEE এবং IBM আয়োজিত “Students for a Smarter Planet IEEE Student Projects Changing the World Challenge” প্রতিযোগিতায় পঞ্চম স্থান অধিকার করে। তাদের এই প্রোজেক্টের নাম ছিল ‘The solar energized power plant’।

প্রোজেক্ট প্রস্তাবনা

তাদের এই প্রজেক্টের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল জ্বালানীর খরচ কমানো এবং ইলেক্ট্রিসিটির পরিমাণ বৃদ্ধি করা । বর্তমান সময়ে যেকোনো ধরণের শক্তি উৎপাদন করে এমন প্লান্টের প্রধান সমস্যা হচ্ছে এগুলো পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। সেদিক দিয়ে  পরিবেশ রক্ষা করাও তাদের এই প্রোজেক্টের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

বর্তমান সময়ে যেকোনো ধরণের উন্নয়নের পথে প্রধান বাধা ইলেক্ট্রিসিটির অভাব এবং ব্যয়বহুলতা। বুয়েটের দলের প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল ইলেক্ট্রিসিটি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদনের খরচ কমিয়ে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার নাগালে আনা।

স্বীকৃতি

২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসের ২০ তারিখের প্রকাশিত এই প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষিত হয়। সারা বিশ্ব থেকে অংশ নেয়া ১২৬টি দলের মধ্যে এই প্রকল্পটি পঞ্চম স্থান অধিকার করে।

এই আইডিয়া বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রধান উপাদান হচ্ছে পানি। এবং শক্তির প্রধান উৎস হচ্ছে সুর্য্যরশ্নি। এর পাশাপাশি আরও যেসব যন্ত্রপাতি প্রয়োজন তার তালিকাটা এমন:
ক. বয়লার
খ. সৌরশক্তি সংগ্রহের জন্য ডিভাইস
গ. বায়বীয় টারবাইন
ঘ. ইলেকট্রিক জেনারেটর
ঙ. শীতলকারক যন্ত্র (কনডেনসার)
চ. সংকোচক যন্ত্র (কমপ্রেসর)
ছ. তাপ ধারক (হিট ক্যাপাসিটর)

যেভাবে কাজ করে

এই প্রক্রিয়াতে কাঁচের লেন্স এবং আয়নার মাধ্যমে সৌর শক্তি শোষণ করা হয়। এই শক্তির পরিমাণ পৃথিবীর আবর্তন, সুর্য্যরশ্নির আপতন কোণ, সমুদ্রপৃষ্ঠ হইতে উচ্চতা, বাতাসের ভর এবং ঘনত্বের উপর নির্ভর করে। কতটুকু তাপশক্তি শোষিত হবে এই পরিমাণ সৌরশক্তি সংগ্রহের জন্য ডিভাইসের পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফলের উপর  নির্ভর করে। এই ডিভাইসের সাহায্যে তাপ শোষণ করে কনডেনসারের মাধ্যমে ঘনীভূত করা হয় ।

এই পর্যায়ে বয়লারে পানি থেকে বাষ্প উৎপাদনের জন্য প্রচুর পরিমাণ তাপশক্তি সরবরাহের প্রয়োজন হয়। যত তাপ দেওয়া হয় বাষ্পের মধ্যকার গতিশক্তি ততই বৃদ্ধি পায়। বয়লারটি কাঁচ দিয়ে ঘেরা থাকে । তাপকে পৃথক করতে এবং বয়লারের সবদিকে তাপ সমানভাবে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য কার্বন-ডাই অক্সাইড, জলীয় বাষ্প ইত্যাদি পরিবেশ বান্ধব গ্রীনহাউস গ্যাস ব্যবহার করা হয়। বয়লারটি মুলতঃ তামা অথবা অত্যন্ত তাপ পরিবাহী উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয়।

উচ্চ চাপ এবং উচ্চ তাপমাত্রার এই বাষ্প টার্বাইনের মধ্যে চালনা করা হয়। উক্ত বাষ্প টারবাইনের ব্লেডে বলপ্রয়োগ করে এবং সংযুক্ত জেনারেটরের শ্যাফটকে প্রয়োজনীয় গতিতে ঘুরিয়ে তড়িৎ শক্তি উৎপাদন করে। যদিও টারবাইনের ব্লেডে কিছু শক্তি শোষণ এবং স্বাভাবিক ঘর্ষণের কারণে বাষ্পের চাপ এবং তাপমাত্রা কিছুটা কমে যায়।

টারবাইন থেকে প্রবাহিত বাষ্পকে কনডেনসার টাওয়ার থেকে আসা শীতল পানির সাহায্যে ঠাণ্ডা করা হয়। এক্ষেত্রে তাপ গ্রহণ করে এই শীতল পানি উষ্ণ পানিতে পরিণত হয়। পরে আবার কমপ্রেসরের মধ্যে সংকোচন প্রক্রিয়াটির পুনরাবৃত্তি হতে থাকে। দিনের অনুপস্থিতিতে এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের সময়ে প্লান্ট চালানোর জন্য সোলারের অবশিষ্ট এবং কনডেনসার টাওয়ার থেকে নির্গত তাপ শক্তি হিট ক্যাপাসিটর ডিভাইসের এর মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হয়।

পুরো প্রক্রিয়াটির প্রবাহ-চিত্র

solar

দলের সদস্য-গন

পারভেজ আহমেদ
মোঃ রফিক মুত্তাকী
ইস্মাত জেরিন
মোঃ আবদুল্লাহ-আল-কাইসার
সৌভিক সরকার

Share Button

1 Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*