বাংলাদেশে RC Gear BD-এর স্বপ্নের অগ্রযাত্রা

একটা খেলনা প্রাইভেট কার, বাস বা ট্রাক কিংবা হেলিকপ্টারের দাম যদি প্রায় ৩০ হাজার টাকার কাছাকাছি হয় তাহলে একটু অবাক হতেই হয় তাইনা? বিশেষ করে যদি এই ঘটনাটা বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশে ইদানীংকালে অহরহ ঘটতে দেখা যায়। বাংলাদেশে অতিসম্প্রতি শুরু হওয়া এই হালের প্রযুক্তি সংস্কৃতি নিয়ে আজকের বুয়েটেক প্রতিবেদন:

RC Gear বা Radio controlled Gear নামের সাথে শতকরা বেশীরভাগ বাঙ্গালীই অপরিচিত। সহজ করে বলতে গেলে এই RC Gear আসলে একপ্রকারে খেলনা। ছোট ছোট বাচ্চারা বাসা বাড়িতে যেসব গাড়ি ঘোড়া নিয়ে খেলে মজা পাই ঠিক সেই ধরণের কিছু। তবে সাধারণ খেলনার সাথে এই ধরণের খেলনা গাড়িগুলোর বিশাল কিছু পার্থক্য আছে। সর্বপ্রথম যে পার্থক্য চোখে পড়ে সেটি হচ্ছে- এগুলির দাম। সাধারণ খেলনার দাম যেখানে ১-৩ হাজার টাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ সেখানে মোটামুটি মানের এসব খেলনাগুলির খুব স্বাভাবিক দাম হচ্ছে ৩-৪ হাজার টাকা!

1233020_607141772665306_1045911193_o

কেন এই বৈষম্য? কারণ এইসব পণ্যগুলি ডিজাইনের দিক থেকে বড্ড বেশী নিখুঁত, বড্ড বেশী বিশেষায়িত।  হাতে থাকা অত্যাধুনিক রিমোট কন্ট্রোলারের মাধ্যমে আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন দূরে থাকা গাড়ি বা স্পীডবোর্ড বা কোয়াডকপ্টার। খেলনা হিসেবে বা গবেষকদের কাজে ব্যবহৃত হলেও এই রেপ্লিকা গুলো আপনাকে পরিচয় করিয়ে দিবে আসল গাড়ি বা স্পীডবোর্ড বা কোয়াডকপ্টার এর গতির সাথে। চিন্তা করুন তো ৬-৭ কেজি ওজনের একটা গাড়ির গতি ঘন্টায় ১৬০ কি.মি.! আরও অনেক অসাধারণ উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োগ করা হয়ে থাকে এসব খেলনা গুলিতে। RC Gear এর সারিতে নাম লেখানো যানবাহনের সংখ্যাও বিশাল। সেখানে যেমন আপনি পাবেন ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ির ছোট মডেল, যেটি কিনা পানি ছুড়ে দিয়ে আগুন নেভানো সহ যাবতীয় কাজ করতে পারে। পাবেন বুলডোজার বা মার্সিডিজের সর্বশেষ রেসিং কার। আপনার স্বপ্নের হেলিকপ্টার বা প্লেনটিও পাবেন নিজের করে, সেগুলি যথেষ্ট গতিতে উড়তেও পারে আবার অন্যান্য কাজও করতে পারে- একদম বাস্তবগুলোর মতোই। সেগুলির আছে বেশ উঁচু মানের পীচ এবং এরোব্যাটিক কন্ট্রোলিং সুবিধা।

10522133_662143573853718_1613029783_n 10523934_662143577187051_1289956781_n

একটা বাস্তব গাড়ি বা উড়োজাহাজ ঠিক যতটা নিখুঁতভাবে ডিজাইন করা হয় তার মডেলের সাথে মিল রেখে বানানো RC Gear বা ক্ষুদ্রাকৃতির খেলনা গাড়িটার বাইরের সৌন্দর্য বা কার্যপ্রণালীতে খুব একটা পার্থক্য থাকেনা। প্রচণ্ড সতর্কতার সাথে এইসব পণ্যগুলি ডিজাইন করা হয়। খুব সূক্ষ্মতার নিরিখে তাদের মান যাচাই করা হয়। এসব গাড়ির কন্ট্রোলিং সিস্টেম বা নানান ফিচারগুলি যতটা সম্ভব মূল গাড়ির সাথে সামঞ্জস্যতা রেখে বাজারে ছাড়া হয়। এগুলি যেমন টেকসই তেমনই কেবল খেলনা হিসেবেই না বরং নানান কাজেও ব্যবহার করা সম্ভব। উন্নত বিশ্বে এসব পণ্যগুলি এতদিন জনপ্রিয় থাকলেই আর্থিক অক্ষমতার বাঁধা পেরিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশের প্রযুক্তির বাজারে জায়গা করে নিতে শুরু করেছে এই RC Gear.

স্বপ্ন , জীবনে বড় হওয়ার প্রথম ধাপ। সবার স্বপ্ন একরকম হয় না কেননা একেকজন জীবনে একেকভাবে বড় হতে চাই । কেউ বা অন্যের দেখানো পথ অনুসরণ করে, কেউ বা নতুন পথের খোঁজ করে হোক সে পথ খুব বন্ধুর। এরকম আলাদা পথের খোঁজ করা মানুষের মধ্যে কায়েস চৌধুরী একজন।

এদেশে সর্বপ্রথম তিনিই বাণিজ্যিকভাবে RC Gear  নিয়ে কাজ শুরু করেন। তাদের এই প্রযুক্তি-বান্ধব আন্দোলনের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন, RC Gears BD গঠনের মাধ্যমে।  বুয়েটেকের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় তার সাথে।

ছোটবেলা থেকেই Gear নিয়ে কাজ করার স্বপ্ন দেখতেন কায়েস চৌধুরী। ছোট বেলাতেই ক্যাসেটের ফিতার Gear দিয়ে বানাতেন নানান রকম গাড়ি। এছাড়া উনার আকাশে উড়ার স্বপ্ন টাও ছিল প্রবল যেখান থেকেই দেশে A লেভেল শেষ করে মালয়েশিয়াতে কম্পিউটার প্রকৌশলে অধ্যয়নের পাশাপাশি যোগ দেন মালয়েশিয়ান AAFC (Air adventure flying Club) তে। সেখান থেকে তিনি অর্জন করেন মালয়েশিয়ান  PPL( Private Pilot License )। 10531071_662143570520385_1551512593_n

দেশে ফিরে এসে তিনি উদ্যোগ নিতে শুরু করেন  RC Gear নিয়ে। উত্তরাতে স্থাপন করেন তাদের প্রতিষ্ঠান। এখানে তিনি বিক্রি করেন  Radio controlled  গাড়ি বা স্পীডবোর্ড বা কোয়াডকপ্টার যেগুলোর বিভিন্ন যন্ত্রপাতি আমদানি করা হয় চীন , সিঙ্গাপুর ও হংকং থেকে। যন্ত্রাংশগুলো প্রত্যেকটি আলাদা আলাদা ভাবেও বিক্রি করা হয় এখানে। তার এসকল কাজে সার্বিক সহযোগিতা করেন সহধর্মিনী নুসরাত চৌধুরী। তার নিজের মাঝেও আছে RC Gear এর প্রতি অনেক ভালোবাসা, অনেক কিছু করার স্বপ্ন।

এদেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীরা যখন প্রোজেক্ট হিসেবে  কোয়াডকপ্টার কিংবা এ ধরণের নানান যান্ত্রিক বাহন নির্বাচন করে তখন তাদের প্রথম যে সমস্যাটা হয় তা হল যন্ত্রপাতির স্বল্পতা । এই স্বল্পতা পূরণে RC Gear shop গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন কায়েস চৌধুরী।

এছাড়া কায়েস চৌধুরী এদেশেই প্রযুক্তিগতভাবে স্বাবলম্বী একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্ন দেখছেন যেখানে কোয়াডকপ্টার এর মতো নানান হাল ফ্যাশনের প্রযুক্তির কাঠামোগত ডিজাইন করে সেগুলো দেশের ভিতরে বা বাইরে যোগান দেয়া সম্ভব হবে। এদেশে RC Gear কমিউনিটি তৈরি করার স্বপ্ন দেখেন প্রতিনিয়ত।  স্বপ্নের নেশা আর পেশাগত উদ্দেশ্য- দুইটা লক্ষ্য নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশের RC Gear সংস্কৃতি আর সম্ভাবনা।

Share Button

1 Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*