কুয়েটের মেহেদী’র উদ্ভাবনঃ কম খরচায় বৈদ্যুতিক ‘Grass Cutter Machine’

আপনার সাধের বাংলো বাড়ি। অনেক শখ করে সাজিয়েছেন কিন্তু বাড়ির সামনের বাগানের ঘাসগুলো কেন জানি বড্ড বেশি বড় হয়ে গেছে। পুরো বাড়ির সৌন্দর্যটাই যেন মলিন করে দিচ্ছে।

বা গ্রামের কোন কৃষি প্রধান পরিবারের কথাই ধরুন। তাদের জীবিকার মূল উৎস ই যেখানে কৃষিকাজ। জমির লাঙ্গল ব্যাবহারের প্রয়োজনীয়তার বিষয় টিও যেমন দেখতে হয় তেমনি জমিতে আগাছা দূরীকরণের বিষয়টিও দেখতে হয়।

আপনার সাজানো-গোছানো বাগানের ঘাসগুলো ছেঁটে দুর করবেন? বা কৃষি জমির আগাছা ছেঁটে ফেলবেন? এজন্য আপনি কি করবেন? হয়তো সেই মান্ধাতার আমলের এনালগ পদ্ধতি ব্যবহার করবেন। ঘাস কাটার কাঁচি বা নিড়ানি ব্যাবহার করতে পারেন, যা অনেক পুরনো পদ্ধতি এবং সময় সাপেক্ষও বটে। অথবা পেট্রোল বা ডিজেল চালিত ঘাস কাটার মেশিন ব্যবহার করবেন, যা অনেক ব্যয়বহুল এবং পেট্রোল-ডিজেল এর ঊর্ধ্বমুখী মূল্যের বাজারে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরেই বলা চলে। তাই আধুনিকতার এই যুগে এই সব পদ্ধতিগুলোকে সেকেলেই বলা চলে।

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এর ইলেক্ট্রিক্যাল ও ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান মেহেদী তৈরি করেছেন বৈদ্যুতিক ঘাস কাটবার যন্ত্র (Electric Grass Cutter Machine)। বাজারে প্রচলিত সব ঘাস কাটবার মেশিনই দুই স্ট্রোক বিশিষ্ট পেট্রোল ইঞ্জিনে চলে। আমাদের দেশে পেট্রোলের মূল্য ও প্রাপ্যতায় কমবেশি সবার ই অনাকাঙ্ক্ষিত হয়রানির অভিজ্ঞতা রয়েছে! সেই ভাবনা থেকেই ইলেকট্রিক গ্রাস কাটারের উদ্ভাবন। কারণ বিদ্যুৎ এখানে তুলনামূলক বেশি সহজলভ্য। আর নরম মাটিকে গাছ লাগানোর উপযোগী করতে লাঙ্গল হিসেবেও যন্ত্রটিকে ব্যাবহার করা যাবে।

sdsdd

9Ah এর দুটো রিচার্জেবল ব্যাটারি যুক্ত থাকায়, একবার চার্জ দিলে যন্ত্রটি চলবে একটানা প্রায় তিন ঘণ্টা। যদিও এটি একটি প্রাথমিক অবস্থার একটি কাজ। আরও উন্নত ১২ কিংবা ২৪ ভোল্ট এর মোটর লাগিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে। এমনকি ব্যাটারির Ah (এম্পিয়ার-ঘন্টা) বাড়িয়েও মেশিনটির কার্যকাল বাড়ানো যাবে। প্রাথমিক অবস্থায় ৪০০০ rpm (প্রতি মিনিটের ঘূর্ণন) এর ১২ ভোল্ট ব্রাশড মোটর ব্যাবহার করা হয়েছে। যার টর্ক প্রায় ৫০০ g.cm (গ্রাম-সেন্টিমিটার)। যন্ত্রটির ওজন ব্যাটারির ওজন এর ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। ৯ Ah ব্যাটারির জন্য যন্ত্রটির ওজন হয়েছে প্রায় ১০ কেজি। সামনে দুটো বিয়ারিং হুইল রয়েছে যেটি দিয়ে সামনে বা পেছনে এবং ডানে বা বামে ঘুরানো যাবে। মোটরের স্পিড কমানো বা বাড়ানোর জন্য কিছু ইলেকট্রনিক্স কন্ট্রোলিং সিস্টেম ব্যাবহার করা হয়েছে। এতে নব ঘুরিয়ে মোটরের স্পিড খুব ভালোভাবে রেগুলেটর করা যায় , যা অন-অফ সুইচের পাশেই রয়েছে। ব্লেড হিসেবে দুটি চার ইঞ্চি চওড়া খুবই পাতলা সীসার পাত ব্যাবহার করা হয়েছে। একটি প্লাস্টিক ফ্রেম ব্লেড দুটোকে রোটরের সাথে আটকে রেখেছে। খুবই ঝুরঝুরে ও হালকা নরম মাটিতে এটি লাঙল হিসেবে সহজেই ব্যাবহার করা যাবে । এতে শুধু ঐ প্লাস্টিক ফ্রেমের ব্লেড টা খুলে নিয়ে বিশেষ ইস্পাতের পাতলা লাঙল ব্লেড লাগাতে হবে ।

স্টিয়ারিংয়ের জন্য হাতল ছাড়া আলাদা কোন ব্যবস্থা আপাতত নেই। যন্ত্রটিকে ভালোভাবে ব্যাবহারের জন্য ঠেলে নিয়ে যেতে হবে। লাঙল হিসেবে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে এটি আপাতত ০.৫০ ইঞ্চির বেশি গভীরে যেতে পারেনা। মোটরের পাওয়ার রেটিং বাড়ালে এটি আরও কর্মক্ষম হবে। যন্ত্রটির সামনের হুইলের উচ্চতা ও পুলারের (মেশিনটি টানা মানুষ) ইচ্ছা অনুযায়ী যে কোন উচ্চতার ঘাস কাটা যাবে। ইলেকট্রিক গ্রাস কাটার বানাতে মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৯০০০ টাকা। যদিও আরও উন্নয়নের মাধ্যমে যন্ত্রটির উৎপাদন খরচ কমানো সম্ভব। ১২ ভোল্ট এর ব্যাটারি চার্জ দেয়ার জন্য একটা ব্যাটারি চার্জারও বানিয়ে নেওয়া হয়েছে, যেটি ১৮ ভোল্ট ডিসি সাপ্লাই দিতে পারে।

মূলত এই ইলেকট্রিক গ্রাস কাটার আশিক মেহেদী একাই বানিয়েছেন তবে এই প্রোজেক্টটির পিছনে প্রাথমিক উদ্যোগ নিতে সল্যুশন নির্ভর কনসালটেন্সি ফার্ম ও কোম্পানি “EMS Solutions” এর ভূমিকা রয়েছে। জামালপুরের ছেলে আশিক মেহেদী উচ্চ মাধ্যমিক পড়েছেন ময়মনসিংহ এর সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজে। স্বপ্ন-বাজ এই তরুণের উদ্ভাবনী চিন্তাটি মাথায় আসে বড় ভাই, ক্যাপ্টেন আরিফের কাছ থেকে। বড় ভাই এর অনুপ্রেরণা ও আর্থিক সহযোগিতায় প্রোজেক্টটিকে সফল করেছেন তিনি। অনেক কষ্টের ফল এই প্রোজেক্ট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রাথমিক এক্সিবিশনেও স্থান করে নিয়েছে।

খুব ছোটবেলা থেকেই নিজে কিছু করার তাগিদ অনুভব করতেন। স্বপ্নের পথে এবার তার একধাপ এগিয়ে যাওয়ার পালা। স্বপ্ন পূরণের পথে সকল বাঁধা এবার পেরুবেই বাংলাদেশের মেধাবী তরুণেরা।

তথ্য ও যোগাযোগঃ

[email protected]
অথবা
০১৯১৫-০০৭৫৭৬

Share Button

2 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*