ipump controller-এর উদ্ভাবকঃ আড়ালের অসাধারণ ছেলেটি!

dsddমোঃ রেজওয়ানুল ইসলাম। ছেলেটা পড়ে সিভিলে। বুয়েটে, ৩য় বর্ষে। স্রোতের বিপরীতে চলার আহ্বানটা ছিল সেই ক্লাস ফোর থেকেই। প্রচন্ড ঝোঁক ছিল ইলেকট্রনিক্সের উপর তখন থেকেই। পরে তো ভর্তি হ’ল বুয়েটের পুরকৌশলে। সেখানে পড়াশোনা করে ইলেকট্রনিক্সের সাথে সিলেবাসের তেমন যোগাযোগ নেই বললেই চলে, তবে তার স্বপ্নের পথচলা থেমে যায়নি মোটেও। সে তার পছন্দের আর নেশার পিছনে গতি না কমিয়েই ছুটে চলেছে আজও। দারুণ মেধাবী এবং প্রচারবিমুখ এই ছেলেটি একের পর এক বানিয়ে চলেছে দারুণ দারুণ সব ইলেক্ট্রনিকস যন্ত্র, উদ্ভাবন করে চলেছে স্বল্পমূল্যের নানান কার্যকরী পদ্ধতি। আড়ালে থাকা এই মেধাবী মুখকে নিয়েই আজকের বুয়েটেকের বিশেষ প্রতিবেদন।

মোঃ রেজওয়ানুল ইসলাম বর্তমানে কাজ করছে একাধিক যুগান্তকারী প্রযুক্তিকে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নতুন আঙ্গিকে উদ্ভাবনের কাজে। সেগুলিতে যেমন সে নিজের ব্যক্তিগত উদ্যোগেও যুক্ত, তেমনি বিভিন্ন সন্মানিত শিক্ষকের সাথেও কাজ করছে একাধিক প্রকল্পে। তবে সবক্ষেত্রেই তার নামটি আমাদের কাছে বড্ড অজানা, সে রয়ে গেছে সবার আড়ালে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তার প্রত্যেকটি কাজই খুব গুরুত্বপুর্ন এবং বাস্তবসম্মত। এসব কাজের বাইরেও অতি দারুণ এবং সম্ভাবনাময় একটি কাজ করেছেন তিনি, সেটি হচ্ছে ipump বা intelligent pump controller device.

কৃষি প্রধান এই দেশে কৃষকদের সেচকাজকে খুব কমখরচে স্বয়ংক্রিয় এবং বিজ্ঞানভিত্তিক ফসল উৎপাদনের জন্য চমৎকার এক ডিভাইস এটি। এটির সুবিধাগুলো হচ্ছে-

১। প্রতিবছর কেবল ভোল্টেজ আপ-ডাউনের কারণে কৃষকের ফসলের অনেক ক্ষতি হয়। সময়মতো সেচকাজে ব্যাঘাত ঘটে। পাম্পের কয়েল পাল্টানোর পর স্পেসিফিকেশন না মেনে কয়েল চেঞ্জ করা হয় বলে সেটাও বেশীদিন টেকেনা। এই ডিভাইসের মাধ্যমে সেই সমস্যাও দূর হবে।

২। সরকার রাতের বেলা পাম্প চালানোর জন্য যে সময় নির্ধারন করে দিয়েছে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে সেটা মানাও খুব সুবিধার হবে। প্রয়োজন হবেনা একজন কর্মীর সারাক্ষণ সেচের কাজে নিয়োজিত থাকা।

৩। পাম্প কাজ করবে শুধুমাত্র ‘অপটিমাম ভোল্টেজ’ এ। High/Low Voltage এ বন্ধ হয়ে যাবে এবং পাম্পকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করবে।

৪। এছাড়া আগে থেকেই ‘সময় নির্ধারন’ করেও পাম্প চালানো যাবে। যেমনঃ ২ ঘন্টা পাম্প চলবার সময় নির্ধারন করে দেয়ার পর যদি ১৫ মিনিট পর বিদ্যুৎ চলে যায় বা ভোল্টেজে তারতম্যের কারনে যদি পাম্প বন্ধ হয়ে যায় তবে আবার কারেন্ট আসলে বা ভোল্টেজে ভারসাম্য ফিরে এলে অবশিষ্ট ১ ঘন্টা ৪৫ মিনিট চলার পর পাম্প আপনাআপনি বন্ধ হয়ে যাবে।

রেজওয়ানুল নিজের উদ্ভাবিত এই ইলেকট্রিক ডিভাইসকে সে ৫টি ভাগে বিভক্ত করে সেগুলোর প্রত্যেকটির পর্যায়ক্রমে উন্নয়ন করেন।

Display Module: 11এর কাজ হল বিভিন্ন (ইনপুট-আউটপুট) তথ্য প্রদর্শন করা।

Control Module:33 এর কাজ হল সময় সেট করা, বিভিন্ন ডাটা ইনপুট দেয়া আর সময়মত পাম্প চালু/বন্ধ করার জন্যে প্রোগ্রাম  করা  ।

Micro-controller Module: 22এটা সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী মডিউল। একে পিসির CPU এর সাথে তুলনা করা যায়। এটি ভোলটেজ ইনপুট নেয়, ডিস্প্লেতে আউটপুট দেখায়। ইনপুট এর জন্য অপেক্ষা করে। Algorithm execute করে পাম্প চালু থাকবে না বন্ধ হবে তা নির্ধারণ করে।

High Voltage Switching Module: 44এটা অনেকটা ব্রিজের মত কাজ করে। এটি সমগ্র ডিভাইসটিকে পাম্পের সাথে সংযুক্ত করে। সাধারণত ইলেক্ট্রনিক্স লাইন ভোল্টেজ (AC) বা ২২০ভোল্টে কাজ করে না। পাম্প কন্ট্রোলার আর অন্যান্য সব মডিউল 5V এ কাজ করে। এই দুই ধরনের সিস্টেম এর মধ্যে বন্ধন করার জন্যে এই মডিউল ব্যবহৃত হয়।

Voltage Sense Module: 55ভোল্টেজ বেশি (High) আছে না কম (low) আছে না স্বাভাবিক (optimum) আছে তা Micro-controller (ক্ষুদ্রনিয়ন্ত্রক) Module কে জানায়।

এক নজরে পুরো ডিভাইসঃ

66

তার উদ্ভাবিত এ সকল যন্ত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সবগুলোর দামই সাধারণ মানুষের নাগালের ভিতর। যেমন, ipump ডিভাইসটির ক্ষেত্রে এটার খরচ হবে মাত্র ৩-৪ হাজার টাকা। বাণিজ্যিক উৎপাদনের ক্ষেত্রে এই মূল্য আরও কমিয়ে আনা সম্ভব।

কেবল এই ডিভাইসই নই, বরং বিভিন্ন শিক্ষক এবং অন্যান্যদের সাথে একত্রে এবং পুরোপুরি পৃথকভাবে মোঃ রেজওয়ানুল ইসলামের আরও অনেক কাজের মধ্যে অন্যতম কিছু হচ্ছে-

1.  Rail Cop: এটির মাধ্যমে রেল-লাইনের কোন স্থানে থাকা ত্রুটি আগে থেকেই জানা সম্ভব হবে।
2.  Eco-RADAR: বিভিন্ন পরিবেশভিত্তিক নমুনা সংগ্রহের কাজে এটি ব্যবহার করা হচ্ছে।
3.  Connected Seismograph: এটির মাধ্যমে বাজারে প্রচলিত ডিভাইসের চাইতে অনেক কম খরচেই ভূমিকম্পের তীব্রতা মাপা সম্ভব হচ্ছে।
4.  Shore Pile Monitoring Device: বিভিন্ন স্থাপনা’র জরুরী ভিত্তি বা বীমগুলো ঠিকমতো স্থাপিত হচ্ছে কিনা এই ডিভাইস তা সনাক্ত করতে পারবে।
5.  Lifetime Settlement Measuring Device of Structures: স্থাপনার স্থায়িত্ব আগাম পরিমাপের জন্য এই ডিভাইস খুবই কার্যকরী।

চোখ বুজে একবার কল্পনা করুন, দেশের এই মেধাবী ছেলেমেয়েগুলি সব দেশেই থাকছে। প্রতিনিয়ত তারা নতুন নতুন প্রযুক্তির পিছনে শ্রম দিচ্ছে। কম খরচে বের করে আনছে অসাধারণ সব উদ্ভাবন, বাস্তবায়ন হচ্ছে তাদের শ্রমফল, পাচ্ছে শ্রমের উপযুক্ত পারিশ্রমিক- কত দ্রুতই না বদলে যেত আমাদের বাংলাদেশ!

তথ্য ও যোগাযোগঃ

[email protected]
অথবা
০১৯১৫-০০৭৫৭৬ ( 8 PM- 11 PM)

Share Button

3 Comments

    • সুজন দাদা তো “ভদ্র হুজুর রসের খেজুর” 😛
      btw লেখাটা দারুণ হইসে। সুজন দাদার বাকি ডিভাইস গুলা নিয়েও বিস্তারিত লিখে ফেল সাজু।

1 Trackback / Pingback

  1. ipump controller-এর উদ্ভাবকঃ আড়ালের অসাধারণ ছেলেটি!

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*