বিশেষ সাক্ষাৎকার- অনন্য ‘হিমেল দেব’

বাস্তবিকই বিশ্বসেরা বাংলাদেশের ‘হিমেল দেব’। ২০১৪ সালের ‘কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি’ বিভাগে ‘দ্য আন্ডারগ্র্যাজুয়েট অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সদ্যসাবেক শিক্ষার্থী এবং নবীন শিক্ষক হিমেল দেব।

২০১৪ সালের ‘কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি’ বিভাগে সারাবিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের তাবৎ শিক্ষার্থীর মধ্যে এই পুরস্কার পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) হিমেল। বুয়েটেকে আজ প্রকাশিত হচ্ছে তার বিশেষ সাক্ষাৎকার-

১. দ্যা আন্ডারগ্র্যাজুয়েট অ্যাওয়ার্ড এর খোঁজ পেলেন কিভাবে?

– স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও কোর্সেরার ডিরেক্টর অফ অপারেশন ‘প্যাং ওয়েইর’ জীবনবৃত্তান্ত দেখতে গিয়ে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট অ্যাওয়ার্ড সম্পর্কে জানতে পেরেছিলাম।

২. ‘কমুউনিটি ডিটেকশন’ এর ধারণা প্রথম কিভাবে মাথায় আসে?

– বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩য় বর্ষে পড়ার সময় আমার সুপারভাইজার ‘ডঃ মোহাম্মদ ইউনুস আলী’ আমাকে ক্লাউড কম্পিউটিং এর তথ্য সংরক্ষণের একটি সমস্যা ‘লোড ব্যালান্সিং’ সম্পর্কে বলেছিলেন। এই সমস্যার সমাধান করতে গিয়েই নতুন সমস্যা ‘কমুউনিটি ডিটেকশন’ সম্পর্কে জানতে পেরেছিলাম।

৩. কমুউনিটি ডিটেকশন কোন কোন ক্ষেত্রে আমাদের সাহায্য করতে পারে?

– সোশ্যাল নেটওয়ার্ক এর দুটো প্রেক্ষাপট রয়েছে। একটি হল ইউজার এর দিক থেকে, আরেকটি হল প্রোভাইডার অর্থাৎ যারা সেবাটি দিচ্ছে তাদের পক্ষ থেকে। কমুউনিটি ডিটেকশন সোশ্যাল নেটওয়ার্ক প্রোভাইডার এর দিক থেকে তথ্য সংরক্ষণের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইউজার এর দিক থেকেও এর কিছু সুবিধা রয়েছে, যেমন অর্থবহ ফ্রেন্ড সাজেশন এর জন্য এটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদের সাথে হিমেল দেব

৪. আপনাদের প্রস্তাবিত এলগরিদম অন্যান্য ডিটেকশন সিস্টেম থেকে কত গুণ বেশি কর্মক্ষম? 

– আমাদের প্রস্তাবিত কমুউনিটি ডিটেকশন এলগরিদমটি অন্যান্য কমুউনিটি ডিটেকশন এলগরিদমের তুলনায় অনেক বেশি আপ্লিকেশন ওরিয়েন্টেড। বিভিন্ন ডেটাসেটে প্রস্তাবিত এলগরিদমটির পারফর্মেন্স অন্যান্য এলগরিদমের তুলনায় বেশ ভালো।

৫. আপনাদের গবেষণার স্যাম্পল কি ফেসবুক থেকেই নেয়া হয়েছে? ফেসবুক ছাড়াও ইন্সটাগ্রাম, গুগল প্লাস, পিন্টারেস্ট, কোরা এরকম আরও অনেক অনেক সোশ্যাল নেটওয়ার্ক রয়েছে। সেগুলোর ক্ষেত্রে এলগরিদমের কোন ধরনের মডিফিকেশন প্রয়োজন আছে কি?

– আমাদের প্রস্তাবিত কমুউনিটি ডিটেকশন এলগরিদমটি যেকোনো সোশ্যাল নেটওয়ার্ক এর জন্য উপযোগী। বিভিন্ন সোশ্যাল নেটওয়ার্ক এর জন্য কিছু ছোট পরিবর্তন অবশ্যই দরকার, তবে সেগুলো মূল প্রক্রিয়ারই একটি অংশ।

৬. ইউজার ইন্টারএকশন এর ভিত্তি হিসেবে পাব্লিক ইন্টারএকশন বিবেচনায় আনা হয়েছে। কিন্তু এমন অনেক ইন্টারএকশন (বার্তা, প্রাইভেসি কন্ট্রোলড ইন্টারএকশন) বিবেচনায় নিলে আউটকাম কতটা ভিন্ন হতে পারে?

– এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন। আমাদের বর্তমান গবেষণায় আমরা এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। সমস্যাটির নাম ‘প্রাইভেট কমুউনিটি ডিটেকশন’। আমার ব্যাক্তিগত অভিমত, আউটকাম অনেক বেশি ভিন্ন হবে।

৭. কমুউনিটি ডিটেক্ট করে সোশাল নেটওয়ার্কগুলো ব্যবহারকারীর জন্য মডিফাই করে কতটুকু এফিশিয়েন্ট করা সম্ভব।

– এই সমস্যাটি নিয়েও আমরা বর্তমানে কাজ করছি। সমস্যাটির নাম ‘পারসনালাইজড কমুউনিটি ডিটেকশন’।

বন্ধুদের সাথে হিমেল দেব

 ৮. গবেষণা করতে আগ্রহী নতুনদের জন্য আপনার সাজেশন কি?

– আমি মনে করি, যেকোনো গবেষণার জন্য কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি অনেক বেশি ধৈর্যের প্রয়োজন। প্রাথমিক সাফল্যেই সন্তুষ্ট না হয়ে উত্তরোত্তর উন্নয়নের মাধ্যমে গবেষণার মানকে আরও সমৃদ্ধ করাই একজন গবেষকের লক্ষ্য হওয়া উচিত। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় নতুন গবেষকদের সঠিক পথ দেখানোর জন্য একজন উপযুক্ত পথপ্রদর্শক প্রয়োজন। আমি অত্যন্ত সৌভাগ্যবান যে আমাকে পথ দেখানোর জন্য দুজন অত্যন্ত গুণী পথ প্রদর্শক ছিলেন- ডঃ মোহাম্মদ ইউনুস আলী এবং ডঃ তানজিমা হাশেম। পাশাপাশি তরুণ গবেষকদের স্বল্পমেয়াদী সফলতার পেছনে না ছুটে কাজের মানের দিকে বেশি নজর দেয়া উচিত। সাফল্য গবেষণার বাই প্রোডাক্ট, এটাকে কখনই মূল লক্ষ্য মনে করা উচিত নয়। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল- গবেষণার প্রভাব। গবেষণা যেন মানুষের জীবনকে আরও উন্নত করতে পারে, এর উদ্দেশ্য যেন শুধু পেপার প্রকাশনায় সীমাবদ্ধ না থাকে।

৯. আমাদের দেশে বা বুয়েটে সুযোগ-সুবিধার অপ্রতুলতার মধ্যে দিয়েও কিভাবে একজন তরুন/ছাত্র গবেষগণাকাজে তার মেধার সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পারে?

– আমি মনে করি তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে পিছিয়ে থাকার সুযোগ অনেক কম। হ্যাঁ, কাঠামোগত কিছু সমস্যা অবশ্যই আছে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কেউ ভালো কাজ করতে চাইলে করা সম্ভব। এই জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল মোটিভেশন। যে কেউ দীর্ঘ সময় কোন একটি বিষয়ে আন্তরিকতার সাথে কাজ করলে সেটার ফলাফল ভালো হবেই।

১০. বুয়েটেকের পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ

– আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।

Share Button

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*