নকল হাতের সন্ধানে!

বুয়েটের মেকানিক্যাল ডিপার্টমেন্টের চতুর্থ বর্ষে পড়ুয়া মোঃ কামরুজ্জামান, এজাজুল হক, মনোজ ঘোষ এবং রাইসুল ইসলাম। সাইবর্গ, বায়োবট শব্দগুলোর সাথে তাদের পরিচয় জাফর ইকবালের লেখা সাইন্স ফিকশন পড়ে। এসব ফিকশনে মানুষ প্রতিস্থাপন করে নিচ্ছে তাদের হারানো অংগ বা বাড়িয়ে নিচ্ছে তার কোন অংগের ক্ষমতা। খুড়িয়ে হাটতে হচ্ছে না কোন পঙ্গু মানুষকে, থেমে থাকতে হচ্ছেনা হাতবিহীন কোন মানুষকে। উৎসাহটা এসেছিল সেখান থেকেই। এই উৎসাহ থেকেই একটি যান্ত্রিক হাতের প্রতিরুপ বানানোর কাজ শুরু করেন ৪ জনে। তখন তারা পড়তেন দ্বিতীয় বর্ষে, আজ থেকে প্রায় ২ বছর আগে।

দেখতে অনেকটা মানুষের হাতের মতো এই রোবটিক হাত চলে মানুষের সচল কোন আঙুলের নির্দেশ মেনে। পাঁচ আঙ্গুলের প্রত্যেকটিকে নিয়ন্ত্রন করা যায় আলাদাভাবে। কোন জিনিস ধরতে পারে অনেকটা মানুষের হাতের মতোই।

সুজন

এই রোবটিক হাতের কাঠামো তৈরী করতে ব্যবহার করা হয়েছে Styrofoam, Plexiglas, Spring, Double sided tape. প্রত্যেকটি আঙুলের গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য আছে পাঁচটা আলাদা আলাদা সার্ভো মোটর। রোবটিক হাতটি নিয়ন্ত্রন করার জন্য ব্যাবহারকারীকে একটা গ্লাভস পরতে হবে যাতে লাগানো আছে পাঁচটি ফ্লেক্স সেন্সর। ব্যাবহারকারী তার যেকোনো সচল আঙুলের সাহায্যে রোবটিক হাতের অনুরূপ এক বা একাধিক আঙুল নিয়ন্ত্রন করতে পারবেন।

হাতের গ্লাভসে লাগানো ফ্লেক্স সেন্সরগুলোর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে বেঁকে গেলে এর রোধ পরিবর্তন হয়ে যায়। এই পরিবর্তনশীল রোধ কে ব্যাবহার করা হয় বৈদ্যুতিক সিগন্যাল তৈরিতে যা পরবর্তীতে পাঠানো হয় মাইক্রোকন্ট্রোলারে। মাইক্রোকন্ট্রোলার এনালগ সিগন্যালকে ডিজিটালে কনভার্ট করে মোটরকে নির্দেশ দেয় আঙুলের এর চলাচল করার জন্য। যেসব বিপজ্জনক জায়গাতে মানুষের হাত পৌছানো সম্ভব নয়, আরেকটি চলনক্ষম রোবটের সহায়তায় সেখানে পৌছে কাজ করতে পারবে এই প্রোস্থেটিক হ্যান্ড।

৩.৭ ভোল্টের ৫ টি লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি পুরো সিস্টেমটি চালানোর জন্য যথেষ্ঠ। বাজারে মোবাইল ফোনের যে ব্যাটারি পাওয়া যায় সেগুলো দিয়েই এটা চালানো যাবে। মেকানিক্যাল পার্টস এবং ইলেক্ট্রিক্যাল সার্কিট সহ পুরো সিস্টেম এর ওজন হবে ১ থেকে ১.৫ কেজির মত। 3D প্রিন্টার দিয়ে Phalanges গুলো আলাদাভাবে তৈরি করে এটির বর্তমান কাঠামো আরো উন্নত করা সম্ভব এবং তখন এটি পরিপূর্ণ রোবট এর সাথেও ব্যবহার করা সম্ভব বলে জানান দলের সদস্যরা।

প্রোজেক্ট শুরু করার আগে টিম মেম্বারদের উদ্দেশ্য ছিল, যাদের হাত নেই তাদের জন্য কিছু করা। অর্থ এবং দেশে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের অভাবে কাজটা এখানেই শেষ করতে হয়েছে।

দূর্ঘটনায় অর্ধেক হাত হারিয়েছেন, কিন্তু মাসল এখনো সক্রিয় আছে- তাদের উপকারে আসলে নিজেদের পরিশ্রম সার্থক হবে বলে মনে করেন তারা। মানুষের হাতের মাসল দিয়ে যেন রোবটিক হাতটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারা যায় এমন কিছু বাস্তবভিত্তিক কাজ করার স্বপ্ন দেখেন দলের সদস্যরা। তারা একদিন সফল হবেন এই বিশ্বাস থেকেই সামনে এগিয়ে চলেছেন।

Share Button

1 Trackback / Pingback

  1. Flex sensor controlled humanoid hand – Ezazul Haque Sabuz

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*