কুয়েটের হানিফ- ‘যেকোনো স্ক্রীনই এখন টাচস্ক্রীন!’

প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় বিশ্বটাই নাকি আজ হাতের মুঠোয় এসেছে। পৃথিবীর এক প্রান্তে বসে অপর প্রান্তের সাথে যোগাযোগ তাই আজ খুব স্বাভাবিকই মনে হয় আমাদের কাছে। শুধু পৃথিবী কেন, সুদূর চাঁদের পিঠে বসেও নভোচারীরা তাদের প্রিয়জনকে পাঠাতে পারেন সেলফি! সময়ের পরিক্রমায় এর সবই আজ পুরনো কথা। বর্তমানে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বিহীন একটি দিনের কথাও কি ভাবা যায়? এসব ছাড়া আজ পৃথিবীটাই যে অচল!

প্রযুক্তি পণ্য এখন আমাদের প্রতি মুহূর্তের সঙ্গী। দিনে যতটুকু সময়ে আমরা স্মার্টফোন কিংবা ল্যাপটপ ব্যবহার করি, প্রিয় বন্ধুটির সাথেও ততোটা সময় নিয়ে গল্প করা হয় না। প্রযুক্তি পণ্য তাই এখন আমাদের ঘনিষ্টতম সহচর। আর আমরা এগুলোকে পেতে চাই বন্ধুরূপেই। পছন্দের ডিভাইসকে বাটন চেপে কমান্ড বুঝিয়ে দেয়া তাই আজ বড্ড সেকেলে লাগে! ইউজার ফ্রেন্ডলি হয়ে ওঠাই এসব পণ্যের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রযুক্তিবিদেরাও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের যেসব উদ্ভাবন ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করেছে, তার একটি হলো টাচস্ক্রিন (touchscreen) প্রযুক্তি। অর্থাৎ স্ক্রিনে স্পর্শ করেই ডিভাইসকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া  যায়। ব্যাপারটা অনেকটা বন্ধুর কাঁধে হাত রেখে গল্প করার মতোই!

তবে কথায় আছে- “সাধ থাকলেও সবার সাধ্য থাকে না।” প্রযুক্তি পণ্যের বেলায়ও কথাটি খাটে। ব্যবহারকারীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে গিয়ে প্রযুক্তিবিদেরা সাহায্য নিচ্ছেন নিত্য নতুন সব প্রযুক্তির। ফলে বাজার মূল্য বেড়ে যাচ্ছে এসব পণ্যের। কিন্তু সব শ্রেণির মানুষের এসব পণ্য কেনার সামর্থ্য কোথায়? তাই মূল্য ব্যবহারকারীদের নাগালের ভেতরে রাখার জন্য প্রচেষ্টা চলছে। কেউ কেউ আবার বিকল্প পদ্ধতি উদ্ভাবনে কাজ করছেন। এতে সহজতর পদ্ধতিতে আর স্বল্পমূল্যে পাওয়া যাবে কাঙ্ক্ষিত কোন সেবা।

সম্প্রতি ‘খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ এর ‘তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক কৌশল’ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ হানিফ আলী সোহাগ টাচস্ক্রিন প্রযুক্তির একটি সহজ সংস্করণ তৈরি করেছেন। এটি ব্যবহার করে যেকোনো সাধারণ ডেস্কটপ কিংবা ল্যাপটপের স্ক্রিনকে টাচস্ক্রিনে পরিণত করা যাবে।

এজন্য প্রয়োজন একটি ওয়েবক্যাম, একটি LED লাইট ও একটি ব্যাটারি।

প্রযুক্তিটি ব্যবহার করা খুব সহজ। যে ডেস্কটপ বা ল্যাপটপে এটি ব্যবহার করতে হবে, ওয়েবক্যামের ক্যামেরা সেটির স্ক্রিনের দিকে রাখতে হবে। এরপর একটি লাইট ব্যবহার করে উপভোগ করা যাবে টাচস্ক্রিনের সুবিধা। ইচ্ছামতো ব্রাউজ করা, ছবি আঁকা, মুভি দেখা থেকে শুরু করে কম্পিউটারের সব ধরণের ফিচারই ব্যবহার করা যাবে স্ক্রিন ব্যবহার করে। এক কথায় আপনার ডেস্কটপ কিংবা ল্যাপটপের স্ক্রিন হয়ে উঠবে টাচস্ক্রিন!

কম্পিউটারে টাচস্ক্রিনের এই সুবিধাটি পেতে প্রথমেই ইন্সটল করতে হবে ল্যাপটাচ (LapTouch) নামের একটি সফটওয়ার। এরপর সেটি রান করে ক্যালিব্রেশান (calibration) করে নিতে হবে। অর্থাৎ সফটওয়ারটিকে বলে দিতে হবে স্ক্রিনের সাইজ কত। ব্যস! এটুকুই। আপনার কম্পিউটারের স্ক্রিনটি পরিণত হয়েছে টাচস্ক্রিনে।

টাচস্ক্রিন প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের মাঝে সুপরিচিত। তবে এই সুবিধাটি পেতে যে খরচ হবে, তার চেয়ে অনেক কম খরচে ব্যবহার করা যাবে ল্যাপটাচ প্রযুক্তিটি। উদ্ভাবক সোহাগের মতে মাত্র ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা খরচ করে এই সুবিধাটি পেতে পারেন ব্যবহারকারীরা। এছাড়াও যেকোনো প্রকার প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধানও করতে পারবেন ব্যবহারকারী নিজেই।

সহজে ব্যবহার উপযোগী, স্বল্পমূল্যের ও কারিগরীভাবে সহজবোধ্য হওয়ায় এই প্রযুক্তি সহজতর করবে আমাদের দৈনন্দিন কম্পিউটিংকে। আর একজন সাধারণ ব্যবহারকারী পাবেন সুলভে টাচস্ক্রিন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা।

ল্যাপটাচের উদ্ভাবক হানিফ বুয়েটেক প্রতিনিধিকে বলেন, “আমি দেশ ও জাতির জন্য কিছু করতে চাই। বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে সফল দেশ হিসাবে চিহ্নিত করাতে চাই।”

বিস্তারিত জানতে ভিডিওটি দেখুন- https://www.youtube.com/watch?v=FpdOA1Y98E4

প্রতিবেদনটি তৈরী করেছেনঃ আবু শাকিল আহমেদ, লেভেল-২/টার্ম-১, তড়িৎকৌশল বিভাগ, কুয়েট।

যোগাযোগঃ ০১৬৭১-৯৯-৩৬-১৯ (শুভ)

Share Button

1 Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*