উভচর রোবট “অ্যাম্ফিবিয়ান”

প্রযুক্তির খেয়ালে মানুষ আজ স্থল-জলপথ জয় করেছে। একই যান যদি একই সাথে মাটি আর পানিতে চলতে পারে, এর গুরুত্ব হয়ে উঠতে পারে অপরিসীম। এমনই এক প্রজেক্ট তৈরী করেছেন বুয়েটের মেকানিক্যাল ডিপার্টমেন্টের ৪ তরুণ। তাদের এই “অ্যাম্ফিবিয়ান” নিয়ে স্বপ্ন আর পথচলা নিয়েই আজকের এই লেখা।

অনেক আগেই এই ধরণের কিছু বানানোর পরিকল্পনা করে আসছিলেন তারা, অনুপ্রেরণা ছিল পানি থেকে মাটিতে যাবে এমন কোনো কিছু বানানোর ইচ্ছা, আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে উভচর ট্যাঙ্কের ব্যবহার। এই যন্ত্র বানাতে জটিল কোন কিছু ব্যবহার না করে হাতের কাছে পাওয়া সহজলভ্য জিনিস ব্যবহার করেছেন বলে জানান তারা। লক্ষ্য ছিলো পুরোপুরি উভচর কিছু বানানো, এটার আকার ছোট হতে পারে কিন্তু প্রতিটা জিনিস যাতে সম্পূর্ণ ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোটোকল ফলো করে।

এই ব্যাপারে মোঃ রায়হান আলি খান( BUET ME-’12) এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, এই যান ব্যবহৃত হতে পারে সারভেইলেন্স এ,মিলিটারি পারপাসে, আর ল্যাবরেটরি অ্যাপারেটাস হিসাবে,আমাদের দেশ এ পরীক্ষামুলক কাজ-যেটাকে এক্সপেরিমেন্টাল রিসার্চ বলে, সেটা কম হয় কারন আমাদের অর্থ আর সুবিধা কম, এই যান দিয়ে পানিতে প্রপেলার এর উপরে বিভিন্ন পরীক্ষা করা সম্ভব।

 

এবার আসি যন্ত্রের গঠন বা নীতির ব্যাপারে। এই যান মাটিতে চলবে সাধারণ গাড়ির মতই, কিন্তু এক্ষেত্রে তারা স্টিয়ারিং এর মাধ্যমে গতি এবং দিক নিয়ন্ত্রণ করার পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। পানিতে চলার জন্য তারা ব্যবহার করেছেন প্রপেলার, কিন্তু বাংলাদেশে ছোট নৌকার প্রপেলার পাওয়া খুবই দুঃসাধ্য। তাই তারা কাস্টিং করে নিজেরাই তৈরী করেছেন। সিমুলেশনের মাধ্যমে বারবার পরীক্ষার মাধ্যমে সেটা বানানো হয়।

এই দলের সদস্যরা হলেন- মোঃ রায়হান আলি খান, সাজিন আহমেদ, ইমরান হোসেন তালুকদার নাহিদ, মোঃ তাজুল ইসলাম। তারা জানান, এই প্রজেক্টের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তারা। স্বল্প বাজেটের প্রজেক্ট ছিলো, এছাড়াও অনেক মেকানিক্যাল পার্ট খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে নিজেদেরই বানাতে হয়েছে। যন্ত্রের ডিজাইন বারবার করা এবইং বারবার ক্যালিব্রেশনের মাধ্যমে এর উপযোগীতা পরীক্ষা করা ছিলো এই প্রজেক্টের বড় চ্যালেঞ্জ। যেসব জিনিস কেনা হতো সেগুলো হয়তো ঐ যন্ত্রের উপযোগী হত না, সেগুলো ব্যবহার উপযোগী করাও ছিলো অনেক পরিশ্রমের কাজ। কিন্তু অদম্য ইচ্ছা আর হাল না ছাড়ার মানসিকতা তাদের সফলতার পথ দেখিয়েছে।

মোঃ রায়হান আলি খান আরও জানান, এই প্রজেক্টের ব্যাপারে তারা ডিপার্টমেন্টাল স্যারদের কাছে অনেক সাহায্য পেয়েছেন, আরও সাহায্য করেছেন অন্য ডিপার্টমেন্টের বন্ধুও। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন সাদমান তাহমিদ( BUET ME-’12) এর কথা। এ ধরনের সাহায্য না পেলে কাজটা তাদের জন্য খুবই কঠিন হত বলে জানান তিনি।

তাদের এই প্রজেক্ট সিলেক্ট হয়েছিলো ICME 2015(11th International Conference on Mechancial Engineering) এ। আগামীতে কোনো প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা আছে কি না এই প্রশ্নে জানা যায়, বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান শক্তির চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে অভাব পূরণ করতে Renewable Energy নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা আছে তাদের। এছাড়া Experimental Research এর ব্যাপারেও তাদের আগ্রহ আছে বলে জানান, যার জন্য দরকার ফান্ডিং আর সুযোগ।

 

Share Button

1 Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*