সেলফ ব্যালান্সিং বাইক!

ধরুন আপনার বাইকটি নিজেই নিজের ভারসাম্য রাখতে পারে, ঢাকার মত জ্যামের শহরে আপনাকে বারবার পা নামিয়ে ব্যালান্স করতে হচ্ছে না। হুট করে এক্সেলারেটরে চাপ দিলে বা ব্রেক করলেও বাইক উলটে যাওয়ার ঝুঁকি অনেক কম। এবং বাইকটির দাম একদম আপনার সাধ্যের মধ্যে!

এই ধারণা থেকেই বুয়েট যন্ত্রকৌশল বিভাগের দুই তরুণ সুকান্ত এবং আরমান তাদের থিসিস টপিক হিসেবে বেছে নিলেন সেলফ ব্যালান্সিং বাইক তৈরিকে। বিষয় ঠিক হয়ে গেলেও কিভাবে করবেন সেই আইডিয়া তখনও ছিল না তাদের। তারপর পড়াশুনা করে বিস্তারিত শিখলেন জাইরোস্কোপ (Gyroscope) সম্পর্কে। জাইরোস্কোপ এমন একটি যন্ত্র যার অভ্যন্তরে একটি ডিস্ক লাটিমের মত ঘুরতে থাকে, বাইরের অংশ বাঁকা হলেও এই ঘূর্ণায়মান অংশ সবসময় খাড়া থাকে। তাই এটি দিয়ে বাইক হেলে গিয়েছে কিনা বা কোন চাকা উপরে উঠে গিয়েছে কিনা সহজেই বোঝা সম্ভব। বাইকের দুই চাকায় দুইটি জাইরোস্কোপ স্থাপন করে তা দিয়ে ইলেকট্রনিক্যালি দুই চাকার বল এর ভারসাম্য রক্ষা করার ব্যবস্থা করলেন তারা। এ বিষয়ে সাহায্য করার জন্য দলে ভিড়লেন তড়িৎ কৌশল বিভাগের সহপাঠী মাকসুদ।

ইলেকট্রনিক জাইরোস্কোপ সেন্সর ব্যবহারের পরিবর্তে তারা ভাবলেন মেকানিক্যাল জাইরোস্কোপ। যা বাইকের ক্ষেত্রে ইঞ্জিন এবং সাইকেলে ছোট্ট ব্যাটারি দিয়েই চালানো সম্ভব। মেকানিক্যাল জাইরোস্কোপের বাড়তি সুবিধা বেজ এর পজিশন ঠিক থাকে এবং বেশ বড় মাপের ধাক্কা শোষণ করতে পারে। এরপর শুরু হলো থিওরির ব্যবহারিক প্রয়োগ, মডেল দাঁড় করানোর জন্য ডিজাইন শেষ করে তা বানাতেই কয়েকটি সমস্যায় পড়লেন, এলুমিনিয়াম স্ট্রাকচার তৈরি করতে গিয়ে তা ঝালাই করা, কাস্ট আয়রন দিয়ে বানানো জাইরোস্কোপ ডিস্কের ঠিক মাঝখানে ড্রিলিং করা এবং সিস্টেমকে মোটরের সাথে কাপলিং করার মত দুরূহ বাধাগুলো টপকিয়ে ভালভাবে চালাতে পারলেন মডেল সেলফ ব্যালান্সিং বাইক।

সফলভাবে প্রেজেন্টেশন শেষ করলেও এখানেই থামতে চান না তারা। এখন এই মডেলকে বাইসাইকেলে ব্যবহার উপযোগী করতে কাজ করছেন নিরলসভাবে।

 

Share Button

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*